বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪০ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
Welcome To Our Website...
সংবাদ শিরোনাম :
কাউখালীতে শিশুদের ঝরে পড়া রোধে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি; টিসিবি’র পণ্য বর্তমানে অসহায় মানুষের আস্থা; আত্রাইয়ে লেডিস ক্লাবের উদ্যোগে গরীব অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ; বেগম খালেদা জিয়ার নামে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত; পিরোজপুরে সিও অফিসের মোড়ে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ: এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে অভিযান; ঐক্যের মাধ্যমে ধানের শীষের বিজয়ের আহ্বান শেখ রেজাউল ইসলামের; দীর্ঘ নয় মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত সওজ পিরোজপুর এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুমন; পিরোজপুরে হাড়কাঁপানো শীতে অসহায়দের পাশে জেলা প্রশাসন: রাতে ঘরে ঘরে পৌঁছাল কম্বল; রাজৈরে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের নির্বাচনী মতবিনিময় সভা; মোংলায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জনের অভিযানে ১০০ কেজি হরিণের মাংস ও ৪ হাজার মিটার ফাঁদ জব্দ; দেশের মালিকানার ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে চাইলে গণভোটে অংশ নিন; অসচ্ছল জেলেদের স্বাবলম্বী করতে বকনা বাছুর বিতরণ; হারানো ২২টি মোবাইল ও প্রতারণার টাকা উদ্ধার; আত্রাই থানা আকস্মিক পরিদর্শনে নওগাঁর পুলিশ সুপার; মোংলা পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হলেন ইমান হোসেন রিপন; মোংলায় অপহৃত নারী উদ্ধার, অপহরণকারী আটক; বদলগাছিতে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ; অত্যাচারীরা হারায়, কিন্তু অত্যাচারের ইতিহাস থেকে যায়; তুষখালীর কাটাখাল শুঁটকি পল্লীতে বিরল প্রজাতির মাছ নিধন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ; মনিয়ারি ইউনিয়নে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত;

ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস;

মোঃ সোহরাওয়ার্দী
ব্যুরো প্রধান রাজশাহী

১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনীর গুলিতে সলঙ্গার হাটে বিলেতি পণ্য বর্জন আন্দোলনের কর্মীসহ সাড়ে চার হাজার সাধারণ মানুষ শহীদ হন।
ব্রিটিশ শাসনামলে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অসহযোগ আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলনে জনতা উদ্বেলিত হয়ে বিলেতি পণ্য বর্জন করে স্বদেশি পণ্য ব্যবহারের সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। এমনি একটি আন্দোলনের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে সলঙ্গায়। সে সময় তৎকালীন পাবনা জেলার (বর্তমান সিরাজগঞ্জে) সলঙ্গায় একটি ব্যবসায়িক জনপদ হিসেবে সপ্তাহে দু’দিন হাট বসত। ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি ছিল বড় হাটবার। মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের কর্মীরা হাটে নামেন বিলেতি পণ্য কেনাবেচা বন্ধ করতে। আর এই স্বদেশি আন্দোলনের কর্মীদের রুখতে ছুটে আসেন পাবনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আর এন দাস, জেলা পুলিশ সুপার ও সিরাজগঞ্জ মহকুমা প্রশাসক এস কে সিনহাসহ ৪০ জন সশস্ত্র পুলিশ।
সলঙ্গার গো হাটায় ছিল বিপ্লবী স্বদেশি কর্মীদের অফিস। পুলিশ কংগ্রেস অফিস ঘেরাওপূর্বক গ্রেফতার করে মাওলানা আবদুর রশিদকে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্ত করতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিদ্রোহে ফেটে পড়ে সলঙ্গার সংগ্রামী জনতা। জনতার ঢল ও আক্রোশ দেখে ম্যাজিস্ট্রেট জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য গুলি চালাতে নির্দেশ দেন। শুরু হয় বুলেট-বৃষ্টি। ৪০টি রাইফেলের মধ্যে মাত্র একটি থেকে কোনো গুলি বের হয়নি। এ রাইফেলটি ছিল একজন বাঙ্গালী পুলিশের। হত্যাকাণ্ডে হতাহতের সরকারি সংখ্যা চার হাজার পাচশত (৪৫০০) দেখানো হলেও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার মতে এর সংখ্যা দশ হাজার (১০০০০) এরও অধিক।
মাওলানা আবদুর রশিদ সলঙ্গা বিদ্রোহের মাধ্যমে উপনিবেশিক শাসনের ভিত নড়িয়ে দিয়েছিলেন। সলঙ্গার রক্তসিক্ত বিদ্রোহ শুধু বাংলার মাটিকে সিক্ত করেনি, সিক্ত করেছে সমগ্র উপমহাদেশ। যে রক্তে ভেজা পিচ্ছিল পথে অহিংস, অসহযোগ আন্দোলনে যা কিছু অর্জিত হয়েছে, তা সলঙ্গা বিদ্রোহেরই ফসল।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Copyright © Frilix Group
প্রযুক্তি সহায়তায় মাল্টিকেয়ার